Tuesday, July 16, 2024

ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে যেসব ধারণা একেবারেই ভুল

 

ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে যেসব ধারণা একেবারেই ভুল



ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বাড়ছে। এখনই সচেতন না হলে জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলবে। হাসপাতালগুলো ভরে যাবে ডেঙ্গু রোগীতে। এসব রোগীর মধ্যে আবার বেশি থাকে শিশু। এদের কারও কারও বয়স থাকে একেবারেই কম। ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা রকম ভুল ধারণা, যা প্রকৃতপক্ষে ভোগান্তি আরও একধাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন তা হলো- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন কিনা? ধারণা এমন, শিশুর হয়তো ডেঙ্গুজ্বর হবে। কিন্তু ধারণাটি সঠিক নয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন। মায়ের দুধের সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু শিশুর শরীরে যেতে পারে না। তবে শিশুকে যদি ডেঙ্গুজ্বর আক্রান্ত মশা কামড় দেয়, তা হলে তার ডেঙ্গুজ্বর হতে পারে।

Loaded32.41%
Remaining Time 7:52

ডেঙ্গুজ্বর একটা ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলে বা সঙ্গে থাকলে অথবা যত্ন করলে, একসঙ্গে খাবার খেলে তারও ডেঙ্গু হয়ে যাবে। তাই আক্রান্ত রোগীকে পৃথক করে রাখা উচিতÑ এমন ধারণা আছে অনেকের মনে।

কিন্তু প্রকৃত সত্য এর ঠিক উল্টো। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলে, একই বিছানায় ঘুমালে, একই তোয়ালে বা একই কাপড়চোপড় ব্যবহার করলে, একই গ্লাস বা প্লেট ব্যবহার করলে অন্যদেরও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি উপসর্গ দেখা দেওয়া থেকে শুরু করে ৬-৭ দিন পর্যন্ত মশার জন্য সংক্রামক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ এ সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো এডিস মশকী কামড় দিলে সে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহক হয়ে পড়বে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলে তখন আর এটি হবে না। তাই এ সময়ে আক্রান্ত রোগীকে মশারির ভেতর রাখতে হবে। কোনোভাবেই মশারি না টাঙিয়ে ঘুমানো যাবে না।

কেউ কেউ মনে করেন একবার এই জ্বর হলে বাকি জীবন আর কখনো হবে না।

এই ধারণাও মোটে সত্য নয়। কারণ ভাইরাসের যে কোনো একটি প্রজাতি দিয়ে একবার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার পর ভবিষ্যতে ভাইরাসের সেই প্রজাতির মাধ্যমে আর আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ রোগীর আজীবন প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। তবে বাকি ৩টি প্রজাতির যে কোনো একটি দিয়ে আক্রান্ত হতে পারে। তবে কেউ যদি পৃথকভাবে ডেঙ্গু ভাইরাসের ৪টি প্রজাতি দিয়ে জীবনে ৪ বার আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তা হলে বাকি জীবন আর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত নাও হতে পারেন, যা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু বাতাসে ছড়ায়- এমন ভাবনাও অনেকের ভেতরে রয়েছে।

আসলে শুধু ডেঙ্গু ভাইরাস আক্রান্ত এডিস মশকীর কামড়েই কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। কাজেই বাতাসে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু উড়ে বেড়ানোর মোটেও কোনো সুযোগ নেই। অনেকে আবার খাওয়ানোর ব্যপারে ভুল জানেন। ডেঙ্গু রোগীকে শুধুমাত্র স্যালাইন কিংবা শুধু তরল খাওয়ানো যাবে- ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। আসলে সবই খাওয়ানো যাবে। তবে তরল খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

লেখক : নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

সহযোগী অধ্যাপক, শিশু ও নবজাতক বিভাগ

বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু হাসপাতাল), সেগুনবাগিচা, ঢাকা

৯৫১১০১০-২১

Saturday, January 2, 2021

সারা শরীরে ব্যথা

 







সারা শরীরে ব্যথা (Ache all over)


বর্ণনা

লক্ষণটি শরীরে ব্যথা ও শরীরের সাধারণ ব্যথা নামেও পরিচিত।

মাইঅ্যালজিয়া (Myalgia) বা মাংসপেশীর ব্যথা বেশ কিছু রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। সাধারণত এক বা একাধিক মাংসপেশীর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে অর্থাৎ মাংসপেশীর অতিরিক্ত সংকোচন-প্রসারণ হলে এই লক্ষণ দেখা দেয়। কোনো ব্যক্তি পূ্র্বে আঘাত না পেলেও তার শরীরে যদি ব্যথা সৃষ্টি হয়, তবে এই ব্যথা ভাইরাসজনিত  ইনফেকশনের  কারণে হতে পারে। এছাড়া মেটাবলিক মাইয়োপ্যাথি (metabolic myopathy), পুষ্টির ঘাটতি এবং ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোমের (chronic fatigue syndrome) লক্ষণ হিসেবেও সারা শরীরে ব্যথা হওয়া সম্ভব।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে:  যেমন-

যোনিদ্বারের ক্যান্সার (Vulvar cancer)ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস (Chronic pancreatitis)
ভ্যালে ফিভার (Valley fever)চিকেনপক্স (Chickenpox)
ম্যালেরিয়া (Malaria)মেনিনজাইটিস (Meningitis)
গলার ইনফেকশন (Strep throat)খাদ্যনালীর ক্যান্সার (Esophageal cancer)
ফ্লু (Flu)অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার (Pancreatic cancer)
ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া/কুচকির হার্নিয়া (Inguinal hernia)রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid arthritis)
অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (Ankylosing spondylitis)ওভারিয়ান টরশন (Ovarian torsion)
প্রিয়াপিজম (Priapism)বোন ক্যান্সার (Bone cancer)
সিকেল সেল অ্যানিমিয়া (Sickle cell anemia)স্পন্ডাইলোসিস (Spondylosis)
সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেম্যাটোসাস (এস-এল-ই) (Systemic lupus erythematosus (SLE))থ্রম্বোফ্লেবাইটিস (Thrombophlebitis)
পালমোনারী ইওসিনোফিলিয়া (Pulmonary eosinophilia)অ্যাড্রেনাল অ্যাডেনোমা (Adrenal adenoma)
হেমাটোমা (Hematoma)রেনোড ডিজিজ (Raynaud disease)
রিঅ্যাক্টিভ আর্থ্রাইটিস (Reactive arthritis)র‍্যাবডোমায়োলাইসিস (Rhabdomyolysis)
হেমারথ্রোসিস (Hemarthrosis)হিমোক্রোমেটোসিস (Hemochromatosis)
ডিজেনারেটিভ ডিস্ক ডিজিজ (Degenerative disc disease)এমফাইসিমা (Emphysema)
টেস্টিকুলার ক্যান্সার (Testicular cancer)ভ্যারিকোস ভেইন (Varicose veins)
গুলেন বারে সিন্ড্রোম (Guillain Barre syndrome)লাং কনটিউশন (Lung contusion)
মোনোনিউরাইটিস (Mononeuritis)হিস্টোপ্লাসমোসিস (Histoplasmosis)
ফাইব্রোমায়ালজিয়া (Fibromyalgia)মায়োকার্ডাইটিস (Myocarditis)
নিউরালজিয়া (Neuralgia)শোগ্রেন সিন্ড্রোম (Sjogren syndrome)
সোমাটাইজেশন ডিজঅর্ডার (Somatization disorder)হাইপারনেট্রেমিয়া (Hypernatremia)
প্যাজেট ডিজিজ (Paget disease)ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া (Trigeminal neuralgia)
অ্যাটেলেকটেসিস (Atelectasis)ফ্র্যাকচার অফ দি পেলভিস (Fracture of the pelvis)
ফ্র্যাকচার অফ দি রিব (Fracture of the rib)ক্রনিক পেইন ডিজঅর্ডার (Chronic pain disorder)
ইনজুরি টু ইন্টারনাল অরগান (Injury to internal organ)অ্যাবডোমিনাল হার্নিয়া (Abdominal hernia)

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যেসকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলোঃ

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

সাধারণত নিন্মলিখিত বিষয়গুলির জন্য সারা শরীরে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়:

  • লিঙ্গ: পুরুষদের চেয়ে নারীদের সারা শরীরে ব্যথা বেশি হয়ে থাকে।
  • বংশ: কোনো ব্যক্তির বংশ/ পরিবারের কারো সারা শরীরে ব্যথা হওয়ার সমস্যা থাকলে সেই ব্যক্তিরও তা হতে পারে।
  • বাতজনিত রোগ: কোনো ব্যক্তির রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা লুপাসের মতো বাতজনিত রোগ থাকলে তার  সারা শরীরে ব্যথা হতে পারে ।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে । পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাত: শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উ: সম্ভাব্য কারণ ফ্লু। ফ্লু বা অন্য কোনো ভাইরাসজনিত ইনফেকশনের কারণে এই সমস্যা হতে পারে। এই ধরনের শরীরের ব্যথা সাধারণত ৫-১৪ দিন স্থায়ী হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্যার নির্মূল করতে পারে। তবে এর লক্ষণ প্রশমিত করার জন্য ঔষধ গ্রহণ করা যেতে পারে।

হেলথ টিপস্‌

টান লাগা বা শারীরিক ক্রিয়াকর্মের ফলে মাংসপেশীতে ব্যথা হলে পরবর্তীতে এই সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করুন:

  • শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করার পূর্বে মাংসপেশী প্রসারণ করুন।
  • ব্যায়াম করার পূর্বে ওয়ার্ম-আপ করুন এবং পরে বিশ্রাম নিন।
  • শারীরিক পরিশ্রম করলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
  • মাংসপেশীর  স্বাভাবিক সংকোচন-প্রসারণ বজায় রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
মাসিক না হওয়া

 






মাসিক না হওয়া (Absence of menstruation)

শেয়ার করুন

মাসিক না হওয়া (Absence of menstruation)

বর্ণনা

লক্ষণটি অ্যামেনোরিয়া (Amenorrhea) হিসেবেও পরিচিত।

অ্যামেনোরিয়া বলতে প্রজননক্ষম নারীদের মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বোঝায়। সাধারণত গর্ভাবস্থা ও দুগ্ধপানের সময় এই লক্ষণ দেখা দেয়। মেনোপজের পরেও মহিলাদের মাসিক হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে:  যেমন-

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যে সকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলোঃ

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মাসিক বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে-

  • বংশ/পরিবার: কোনো মহিলার বংশের অন্যান্য মহিলা সদস্যদের মাসিক বন্ধ হওয়ার সমস্যা থাকলে তারও এটি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
  • খাদ্য গ্রহণে সমস্যা: কোনো মহিলার  অ্যানোরেক্সিয়া (anorexia) বা বুলিমিয়ার (bulimia) মতো ইটিং ডিজঅর্ডার থাকলে তার মাসিক বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • ক্রীড়া অনুশীলন: কঠোর অনুশীলন করার ফলে মহিলাদের মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

জাত: শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

হেলথ টিপস্‌

যেহেতু অতিরিক্ত  শারীরিক পরিশ্রম ও স্বল্প পরিমাণে খাদ্য গ্রহণের কারণে অ্যামেনোরিয়া হতে পারে, তাই কাজ করা ও বিশ্রাম গ্রহণের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে চলুন। আপনার  মানসিক চাপ ও দ্বন্দ্ব থাকলে সেগুলি কমানোর চেষ্টা করুন। যদি আপনি নিজে থেকে কমাতে না পারেন, তাহলে এ ব্যাপারে পরিবার, বন্ধু ও চিকিৎসকের সাহায্য নিন। ঋতুচক্রের পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখুন, এবং এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা মেনে চলুন। পিরিয়ড শুরুর সময় পিরিয়ডের স্থায়ীত্ব বা কোনো সমস্যাপূর্ণ লক্ষণ দেখা দিলে তা লিখে রাখুন।