নবজাতকের জন্ডিস হলে কী করবেন?
জন্ডিস নামটিই যেন ভয়ানক। তার উপর যদি সেটা আবার আপনার সদ্য জন্মা সন্তানের হয় তাহলে তো যেন কষ্টের বাধ থাকেনা। কিন্তু নবজাতকের জন্ডিস নিয়ে ভয় পাবেন না।
সাধারণত ৫০ শতাংশ নবজাতকের এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে ছেলে সন্তানের এবং এটি কোন মারাত্বক ব্যাধি নয়। সঠিক চিকিৎসায় আপনার সন্তান কয় এক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠবে।
তাহলে চলুন নবজাতকের জন্ডিস সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেই-
নবজাতকের জন্ডিস কী?
রক্তে উচ্চমাত্রার বিলিরুবিনের উপস্থিতির কারণে শিশুদের জন্ডিস হয়। লোহিত রক্ত কণিকা শরীর থেকে অপসারণের সময় হলুদ বর্ণের বিলিরুবিন তৈরী করে। লিভার এই বিলিরুবিনকে মলের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশুর ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায় এবং এর ফলে নবজাতকের জন্ডিস হয়।
এটি খুবই প্রচলিত একটি ব্যাধি, বিশেষ করে যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্মগ্রহণ করে (প্রি-টারম – ৩৪ সপ্তাহের পূর্বে)। নবজাতকের লিভার অপরিপক্ক হলে তা রক্ত প্রবাহে বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এর ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়।
কারণ
শিশুদের জন্ডিস হবার কারণ গুলো নিম্নে দেওয়া হলোঃ
রক্তকোষের আকারের অস্বাভাবিকতা।
রক্তে লোহিত রক্ত কনিকার উপস্থিতি।
বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন।
নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ গ্রহণ।
সিসটিক ফাইব্রোসিস (cystic fibrosis) এবং হেপাটাইটিস (hepatitis)।
হাইপক্সিয়া বা শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া।
বংশগত বিভিন্ন ধরনের ব্যাধির কারণে নবজাতকের জন্ডিস হতে পারে।
লক্ষণ
চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারনত নিন্মলিখিত লক্ষণগুলো দেখতে পান-
বাচ্চার খাদ্য গ্রহণে সমস্যা হয়।
বাচ্চাটি অস্বস্তি বোধ করতে থাকে।
শিশুর মলের আকার আকৃতি পরিবর্তিত হতে থাকে।
নাভির আকৃতি সঠিক থাকেনা।
কানে তরল জমে।
হঠাৎ করে ওজন কমে যায়।
বমি করা
শারীরিক বৃদ্ধি কমে যাওয়া
পেট ফাঁপা
বাচ্চাটি অস্বস্তি বোধ করতে থাকে।
শিশুর মলের আকার আকৃতি পরিবর্তিত হতে থাকে।
নাভির আকৃতি সঠিক থাকেনা।
কানে তরল জমে।
হঠাৎ করে ওজন কমে যায়।
বমি করা
শারীরিক বৃদ্ধি কমে যাওয়া
পেট ফাঁপা
ঝুঁকিপুর্ণ বিষয়
নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে শিশু জন্ম গ্রহণ করলে নবজাতকের জন্ডিস হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
জন্মের সময় কালশিটে দাগ (ব্রুইজ) থাকলে নবজাতকের জন্ডিস হবার সম্ভাবনা থাকে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
জন্ডিস নবজাতকের বেশি হয় কেন?
উত্তরঃ প্রতিটি মানুষের রক্তে বিলিরুবিন থাকে এবং এটি লিভারের মাধ্যমে শরীর থেকে অপসারিত বা বের হয়ে যায়। গর্ভাবস্থায় মায়ের লিভারের মাধ্যমে শিশুর শরীর থেকে বিলিরুবিন অপসারিত বা বের হয়ে যায়। নবজাতকের জন্মের পরে তাদের লিভার বিলিরুবিন অপসারন করতে কিছু দিন সময় নেয়, এই কারণে অধিকাংশ নবজাতকের জন্মের পরে জন্ডিস হয়ে থাকে।
জন্ডিসের কারণে কি নবজাতকের ক্ষতি হতে পারে?
উত্তরঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রে নবজাতকের জন্ডিস ক্ষতিকর হয় না। খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, বিলিরুবিনের মাত্রা বেরে যাওয়ার কারণে শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। একারণে সদ্য নবজাতকের জন্ডিস আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রা কমানোর জন্য চিকিৎসা করতে হবে।
হেলথ টিপস্
মায়ের দুগ্ধ পান করানো হচ্ছে নবজাতকের জন্ডিস প্রতিরোধের সবচেয়ে উত্তম পন্থা। যেসব নবজাতক শিশু মায়ের দুগ্ধ পান করে তাদেরকে এক দিনে ৮-১০ বার দুগ্ধ পান করানো উচিত।

0 comments:
Post a Comment