সারা
বিশ্বে
প্রায়
১৫.৫ কোটি শিশু
(যাদের
বয়স
৫
বছরের
নিচে)
নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়
প্রতি
বছর
এবং
প্রায়
১৬
লাখ
শিশু
মারা
যায়।
৫
বছরের
কম
বয়সী
শিশুদের জন্য
সবচেয়ে মারাত্মক এই রোগটি। এক
বছরে
শুধুমাত্র নিউমোনিয়া যত
শিশুর
মৃত্যু
ঘটায়,
এইডস,
ম্যালেরিয়া এবং
হাম
একত্রে
মিলিয়েও তার
সমপরিমাণ মৃত্যু
ঘটায়
না।
অথচ
এই
রোগের
প্রতিরোধ এবং প্রতিকার দুটিই সম্ভব।
সাধারন
মানুষ
একটু
সতর্ক
হলেই
এই
মৃত্যুর হার
একেবারে কমিয়ে
আনা
সম্ভব।
তাইতো
এবারের বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবসের
প্রধান
লক্ষ্য
বাঁচাতে হবে
প্রত্যেক শিশুকেই; প্রত্যেক শিশুই
মূল্যবান সম্পদ।
বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস
প্রতি
বছর
১২ই
নভেম্বর বিশ্বের সকল
দেশের
মানুষ
একত্রিত হয়ে
নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব
নিউমোনিয়া দিবস
পালন
করে।
শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১০০টিরও বেশি সংস্থা একত্রে
মিলিত
হয়ে
গ্লোবাল কোয়ালিশন এগেইন্স্ট চাইল্ড নিউমোনিয়া গঠন করে এবং ২০০৯
সালের
২
নভেম্বর বিশ্ব
নিউমোনিয়া দিবস
পালনের
সিদ্ধান্ত নেয়া
হয়।
২০১০
সাল থেকে ২ নভেম্বরের পরিবর্তে ১২ই
নভেম্বর বিশ্ব
নিউমোনিয়া দিবস
পালন
করা
হয়।
তখন
থেকে ১২ই নভেম্বর বিশ্ব
নিউমোনিয়া দিবস
পালিত
হচ্ছে।
নিউমোনিয়া কী?
নিউমোনিয়া ফুসফুসের এক
ধরণের
ইনফেকশন বা
প্রদাহ
যা
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস,
ফাংগাস
অথবা পরজীবীর কারণে হতে পারে।
এর
ফলে
প্রাথমিকভাবে ফুসফুসের অ্যালভিওলিতে জ্বালা-পোড়ার সৃষ্টি হয়;
অথবা
অ্যালভিওলিতে ফ্লুইড
জমে
যায়।
অ্যালভিওলি হল
ফুসফুসের মধ্যে
থাকা
আণুবীক্ষণিক ঝিল্লী
যা
অক্সিজেন শোষণ
করে।
নিউমোনিয়া রোগের কারণ কী কী?
- সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার
সংক্রমণের কারণে নিউমোনিয়া হয়ে থাকে। ভাইরাস, ফাংগাস ও
পরজীবীর আক্রমণেও নিউমোনিয়া হতে পারে।
- ব্যাকটেরিয়ার
জীবাণু আছে এমন কোন স্থানে নিঃশ্বাস নিলে বা শরীরের অন্য কোন স্থানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে এবং সেখান থেকে রক্তের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার জীবাণু ফুসফুসে পরিবাহিত হলে নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে।
- সাধারণত স্ট্রেপ্টোকক্কাস
নিউমোনি নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে নিউমোনিয়া হয়ে থাকে।
- এছাড়াও হেমোফাইলাস
ইনফ্লুয়েঞ্জি, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস, মাইকোপ্লাজমা নিউমোনি ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়ার কারণেও নিউমোনিয়া হয়।
- বেশির ভাগ ক্ষেত্রে
ছোট শিশুদের ভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়া হয়ে থাকে।
- রেস্পিরেটরি সিনসাইশিয়াল
ভাইরাস, ফ্লু টাইপ এ
কিংবা টাইপ বি ভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়া হয়ে থাকে।
- অনেকে ফাংগাসের
কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তবে সুস্থ সবল থাকলে ফাংগালনিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
- শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা দুর্বল হলে ফাংগাল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
যাদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে
- বাচ্চা বা ছোট শিশুদের।
- বয়স্ক মানুষের।
- যারা ধূমপান করেন।
- যাদের শারীরিক সমস্যা থাকে।
- রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা দুর্বল হলে।
- যেকোনো ধরণের মারাত্মক
রোগে আক্রান্ত হলে।
লক্ষণ
- কাশি ও কাশির সাথে সাথে সবুজ মিউকাস বের হতে পারে।
- জ্বর
- দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস
গ্রহণ এবং নিঃশ্বাসে দুর্বলতা।
- কাঁপুনি দিয়ে ঠাণ্ডা লাগা।
- বুকে ব্যথা, বিশেষ করে যখন দীর্ঘ নিঃশ্বাস
নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
- দ্রুত হৃদস্পন্দন।
- অবসাদ এবং দুর্বল বোধ করা।
- বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া।
- ডায়রিয়া এবং মাথা ব্যথা।
- মাংসপেশিতে
ব্যথা এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
- কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হওয়া।
- ত্বকের রং পরিবর্তিত
হয়ে গোধূলি বা বেগুনি হওয়া।
নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করণীয়
- ভ্যাকসিন
বা টিকা দিয়ে রাখা।
- নিউমোনিয়ার
দু ধরনের ভ্যাকসিন আছে। হিব ভ্যাকসিন ও
নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন।
- হিব ভ্যাকসিন
৬
সপ্তাহে অর্থাৎ দেড় মাস বয়সে নিতে হয়। দেড় মাস বয়স থেকে সরকারি যে টিকা দেওয়া হয় সেটি পেন্টা ভ্যাকসিন (Penta Valent Vaccine) নামে পরিচিত। এই ভ্যাকসিনে একই সঙ্গে পাঁচটি রোগের টিকা বিদ্যমান যার মধ্যে একটি হল হেমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত নিউমোনিয়া।
- নিউমোকক্কালজনিত
নিউমোনিয়ার জন্য নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন দিয়ে প্রতিরোধ করতে হয়। এ
ক্ষেত্রে ছয় মাস বয়সের আগে নিলে তিন ডোজ নিতে হয়। ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে নিলে দুই ডোজ এবং এক বছর পরে নিলে এক ডোজ নিতে হয়।
- টিকা দেওয়ার ফলে নিউমোনিয়া
হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়, নির্মূল হয় না।
- নিয়মিত পরিষ্কার
পরিচ্ছন্ন থাকুন, বিশেষ করে কোন কাজ করার আগে ও
পরে হাত পরিষ্কার করুন।
- ধূমপান, মদ্যপান ত্যাগ করুন।
- প্রাপ্তবয়স্করা
নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
- স্বাস্থ্যকর
খাবার খান।
- অপরিষ্কার
পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন।

0 comments:
Post a Comment